হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হজরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর সাক্ষাতের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি কিছু এমন বিষয়ে আলোকপাত করেন যা তিনি তার বিখ্যাত খুতবা ফাদাকিয়া-তে বলেননি। তার এই বক্তব্য বিশেষ করে মহাজিরিন ও আনসার নারীদের উদ্দেশ্যে ছিল, যেখানে তিনি কেবল বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেননি, বরং ভবিষ্যতের গম্ভীর পরিণতি সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
যখন মহাজিরিন ও আনসার নারীরা হজরত ফাতিমা (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, "কিভাবে আছো, ইয়া বিনতে রাসূলুল্লাহ?" (হে রাসূলের কন্যা! তোমার সকালের অবস্থা কেমন?), তখন হজরত ফাতিমা (সা.) উত্তর দেন: "আমি সকালে তোমাদের দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে আছি এবং তোমাদের পুরুষদের প্রতি গভীর রাগ অনুভব করছি।"
হজরত ফাতিমা তার কথায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, যে অত্যাচার ও অবিচার তার উপর করা হয়েছে, তার ভবিষ্যত পরিণতি তাদেরই হাতে আসবে যারা এই অত্যাচার করেছে। তিনি বলেন: "যে বীজ তোমরা বুনেছ, তা-ই তোমাদের হাতেই ফলবে।" এবং খিলাফতের ব্যাপারে তিনি বলেন: "তোমরা যে খিলাফতের উটটিকে দখল করেছ, তা জেনে রাখো, ভবিষ্যতে তাতে দুধ নয়, রক্ত পাবে।"
হজরত ফাতিমা (সা.) মদিনায় হামলার উদাহরণও দেন, যেখানে সাতশত ব্যক্তি ছিলেন যারা মহাজিরিন ও আনসারের মধ্যে ছিলেন এবং তারা তাকে সাহায্য করেননি। ইয়াজীদের সেনা তিন দিন ধরে মুসলমানদের ইজ্জতকে তাদের সৈন্যদের জন্য হালাল করে দেয়। ইবনে তায়মিয়া মত অনুসারে, হজরত ফাতিমা (সা.) মহাজিরিন নারীদেরকে জানিয়েছিলেন যে তাদের কাজের ফলস্বরূপ হাজার হাজার অবৈধ সন্তান জন্ম নিবে।
এই আলোচনা হজরত ফাতিমা (সা.)-এর সাহসী দৃশ্যপট এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশ করে, যা কেবল সেই সময়ের পরিস্থিতিতে আলোকপাত করে না, বরং ভবিষ্যত প্রজন্মকেও অত্যাচারের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে।
আপনার কমেন্ট